২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৮.৫৪ শতাংশ বেড়েছে। ১ অক্টোবর রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এই তথ্য প্রকাশ করেছে। মাসটিতে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৯৪ কোটি ডলার, যেখানে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আয় ছিল ৩৬৩ কোটি ডলার।

টানা দ্বিতীয় মাসে রপ্তানি বাড়ল। আগস্টে তৈরি পোশাক খাতের ঘুরে দাঁড়ানো এবং কয়েকটি ছোট খাতের ভালো ফলের কারণে রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়েছিল।

শীর্ষে তৈরি পোশাক

দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক থেকে সেপ্টেম্বরে আয় হয়েছে ৩০৮ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই মাসের চেয়ে ৮.৫৬ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ মাসটির মোট পণ্য রপ্তানির প্রায় পাঁচ ভাগের চার ভাগই এসেছে পোশাক থেকে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে, অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে মোট রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৩০৯ কোটি ডলার। এটি আগের বছরের একই তিন মাসের তুলনায় ৬.৩৪ শতাংশ বেশি।

স্থবির এক বছরের পর

এই পুনরুদ্ধার এসেছে একটি কঠিন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পর। ওই বছর জুনে ভালো রপ্তানি হলেও মোট পণ্য রপ্তানি দাঁড়ায় প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে, যা আগের বছরের চেয়ে সামান্য কম। রপ্তানিকারকদের উচ্চ সুদের ঋণ, গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বাড়তি জাহাজভাড়া ও জ্বালানি খরচ সামলাতে হচ্ছে।

প্রথম প্রান্তিকের এই হিসাব এমন সময়ে এল, যখন দেশ বাণিজ্যিক মর্যাদা পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের কথা রয়েছে, আর সরকার এটি তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। উত্তরণের পর একসময় ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও কানাডার মতো বাজারে পোশাকের কিছু শুল্কমুক্ত সুবিধা শেষ হবে। তাই কারখানার মালিক ও শ্রমিক উভয়েই রপ্তানির গতিপ্রকৃতির দিকে নজর রাখছেন।

স্থানীয়ভাবে কেন গুরুত্বপূর্ণ

মুন্সীগঞ্জের অবস্থান দেশের দুই প্রধান পোশাক ও বস্ত্রশিল্প কেন্দ্র ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের মাঝখানে। এই অঞ্চলের কর্মসংস্থান, মজুরি ও স্থানীয় ব্যবসা রপ্তানির গতির সঙ্গে ওঠানামা করে। রপ্তানির স্থিতিশীল চিত্র ওই কারখানাগুলোর কাজকে সহায়তা করে। ইপিবি প্রতি মাসের শুরুতে মাসিক রপ্তানির তথ্য প্রকাশ করে। অক্টোবরের তথ্য নভেম্বরের শুরুতে প্রকাশের কথা।

সূত্র: epb.gov.bd, bgmea.com.bd