বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর দেশজুড়ে কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। ফেনী সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
কৃষকেরা যা পাচ্ছেন
প্রথম ধাপে কার্ড পাওয়া প্রত্যেক কৃষক বীজ, সার ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে কৃষি উপকরণ সহায়তা হিসেবে আড়াই হাজার টাকা পাচ্ছেন। কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকৃত কৃষকেরা যাতে সহজে ও স্বচ্ছভাবে সরকারি সেবা, উপকরণ, প্রণোদনা ও অন্যান্য সহায়তা পান, সে জন্যই এই কার্ড।
কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ জানান, এ বছর ৪৩ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়া হবে এবং আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের সব কৃষককে এর আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। প্রথম দিনে পাইলট পর্যায়ে ১ লাখ ৪৭ জন কৃষক নগদ সহায়তা পেয়েছেন। পাইলট পর্যায়ে ৫৬ জেলার ৭৭টি উপজেলা রয়েছে।
উদ্বোধনী আয়োজন
ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে প্রধানমন্ত্রী কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সম্মানী বিতরণ করেন। অন্য জেলাগুলো ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে উদ্বোধনে যুক্ত হয়। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নারগুন উচ্চবিদ্যালয় মাঠে দুটি কৃষি ব্লকের ২ হাজার ১৩৭ জন কৃষক কার্ড ও নগদ সহায়তা পান।
একই সফরে প্রধানমন্ত্রী পরশুরাম উপজেলায় মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ পুনর্বাসন প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের উদ্বোধন করেন। এ ছাড়া ছাগলনাইয়া, পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার সরকারি ভবনের ছাদে বসানো সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করেন। তিনটি স্থাপনার মোট সক্ষমতা ৯৬০ দশমিক ৮ কিলোওয়াট, যার বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যাচ্ছে। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এগুলো বাস্তবায়ন করেছে।
মুন্সীগঞ্জের জন্য তাৎপর্য
মুন্সীগঞ্জ দেশের অন্যতম প্রধান আলু উৎপাদনকারী জেলা, আর বিক্রমপুরের বহু পরিবার পদ্মা, ধলেশ্বরী ও মেঘনার তীরে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। পরবর্তী ধাপগুলোর জেলাভিত্তিক সময়সূচি সরকার এখনো প্রকাশ করেনি। কর্মসূচি কবে নিজ এলাকায় পৌঁছাবে, তা জানতে কৃষকেরা উপজেলা কৃষি অফিসে খোঁজ নিতে পারেন।
সূত্র: moa.gov.bd, dae.gov.bd, reb.gov.bd, feni.gov.bd