এ মাসে রাজধানীতে যাওয়ার পরিকল্পনা করার ভালো কারণ পেলেন মুন্সীগঞ্জের সংগীতপ্রেমীরা। আর্টিস্ট ক্লাব লিমিটেড তাদের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ১১ থেকে ২১ নভেম্বর দশ দিনের সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করছে, যেখানে লোকসংগীত, চিত্রকলা ও অপেরার সমন্বয় ঘটবে। ২৬ অক্টোবর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকেরা এ ঘোষণা দেন।

১১ থেকে ২০ নভেম্বর উৎসবে থাকবে বাউল, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া ও গম্ভীরা, সঙ্গে লালন শাহ ও হাছন রাজার গান। মণিপুরি, চাকমা, মারমা, সাঁওতাল ও হাজং সম্প্রদায়ের সংগীতও অনুষ্ঠানসূচির অংশ।

২১ নভেম্বর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকার গ্র্যান্ড বলরুমে সমাপনী রাতে পরিবেশিত হবে আয়োজকদের ভাষায় দেশের প্রথম ফরাসি-বাংলা অপেরা ফিউশন। এতে অংশ নেবেন ফরাসি অপেরাশিল্পী ভেরোনিক পাঁ ও পিয়ানোবাদক ফাব্রিস মেত্র। চিত্রকলা অংশে ‘আর্ট ট্রিলিয়ার্ড অ্যাওয়ার্ড: ইয়াং পেইন্টার্স অব টুমরো’ নামে ২০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী শিল্পীদের জন্য দেশব্যাপী প্রতিযোগিতা হবে।

তরুণ শিল্পীদের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তিন বছর আগে আর্টিস্ট ক্লাবের যাত্রা শুরু, আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন হয় ২০২৫ সালে। নিয়মিত আয়োজন ‘ফ্রাইডে মিউজিক্যাল ইভনিং’ এর দুই শতাধিক পর্ব হয়েছে। সংগঠনের সভাপতি সুজিত মোস্তফা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এ ধরনের উদ্যোগ ব্যতিক্রমী এবং বিভিন্ন শিল্পধারার সঙ্গে দর্শকদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে এটি মননশীলতার বিকাশে সহায়ক হতে পারে। ঢাকার ফরাসি দূতাবাসের উপপ্রধান ফ্রেদেরিক ইনজা বলেন, ‘এই উৎসবে ইতিবাচক সাড়া পেলে ভবিষ্যতে আমরা এ ধরনের আরও আয়োজন করব.’

বিক্রমপুরের দর্শকদের কাছে ভাটিয়ালি অংশের আলাদা আবেদন আছে। এগুলো বিশাল নদীর মাঝিদের গান, আর পদ্মা, মেঘনা ও ধলেশ্বরীঘেরা এই জেলার সঙ্গে এর স্বাভাবিক সম্পর্ক। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের কারণে রাজধানী এখন হাতের নাগালে, তাই মুন্সীগঞ্জের তরুণ সংগীতশিল্পী, সংগীতের শিক্ষার্থী ও পরিবারগুলোর জন্য জীবন্ত লোকঐতিহ্যের পাশাপাশি বিরল অপেরা সহযোগিতা উপভোগের সহজ সুযোগ এই উৎসব।

যাঁরা যেতে চান, তাঁরা উৎসব শুরুর আগে দৈনিক অনুষ্ঠানসূচি ও প্রবেশসংক্রান্ত তথ্যের জন্য আর্টিস্ট ক্লাবের ঘোষণার দিকে নজর রাখতে পারেন।

Photo: AlAminContributor, CC BY-SA 4.0, via Wikimedia Commons