৩১ অক্টোবর প্রকাশিত এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের ফল আতঙ্ক নয়, মনোযোগী বিশ্লেষণের দাবি রাখে। জাতীয় পর্যায়ে সব বোর্ড মিলিয়ে পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ, যা ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন বলে জানা গেছে। ২০২৫ সালে এই হার ছিল ৫৮.৮৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ প্রাপ্তের সংখ্যা আগের বছরের ৬৯ হাজার ৯৭ থেকে কমে ৪০ হাজার ৮৪ জনে নেমেছে।

আশার দিকও আছে। মুন্সীগঞ্জ যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীন, সেই বোর্ড নয়টি সাধারণ বোর্ডের মধ্যে ৬১.৮০ শতাংশ পাসের হার ও ১৬ হাজার ৭১৪টি জিপিএ-৫ নিয়ে শীর্ষে। আমাদের জেলায় লৌহজংয়ের ইউনুছ খান মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ শতভাগ পাস করেছে, আর জেলার ৫৫টি জিপিএ-৫ এর ২৬টিই সরকারি হরগঙ্গা কলেজের।

তবু ৮ হাজার ৬১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জেলার ৫০.৬২ শতাংশ পাসের হার দেখায়, এখনো অনেক কাজ বাকি। উপজেলাগুলোর মধ্যে ব্যবধানও বড়: লৌহজংয়ে ৬৪.৯১ শতাংশ, গজারিয়ায় ৩২.৯৪ শতাংশ। প্রতিটি শতাংশের পেছনে রয়েছে এমন শিক্ষার্থীরা, যাদের এখন পুনঃপরীক্ষা, ভর্তি ও কাজ নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।

আমরা মনে করি, পদক্ষেপ হতে হবে বাস্তবসম্মত। প্রথমত, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের উচিত বিষয়ভিত্তিক ফল বিশ্লেষণ করে ঠিক কোথায় শিক্ষার্থীরা পিছিয়েছে তা চিহ্নিত করা, ফলকে একটি মাত্র রায় হিসেবে না দেখা। দ্বিতীয়ত, পিছিয়ে থাকা এলাকার স্কুল ও কলেজগুলোর জন্য দরকার লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা: শিক্ষক প্রশিক্ষণ, বিজ্ঞান ও গণিতের উন্নত সুবিধা এবং উপস্থিতির নিয়মিত তদারকি। তৃতীয়ত, জেলা প্রশাসনের মাসিক অ্যাওয়ার্ড অব এক্সিলেন্স ইতিবাচক চাপের ভালো উদাহরণ, এর সঙ্গে ভালো ফল করা ও পিছিয়ে থাকা কলেজগুলোর মধ্যে পরামর্শভিত্তিক সংযোগ গড়ে তোলা যায়।

অভিভাবকদেরও ভূমিকা আছে। এ সপ্তাহের পুরস্কার অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক যেমন বলেছেন, শিক্ষক ও অভিভাবকের মধ্যে নিয়মিত কাউন্সেলিং বড় পার্থক্য গড়তে পারে। যারা পাস করতে পারেনি, তাদের দরকার উৎসাহ এবং পুনঃপরীক্ষা ও বিকল্প পথ সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য, দোষারোপ নয়।

কঠিন একটি বছর প্রত্যাশা কমানোর কারণ নয়। বরং এটি পাঠদানে, শেখায় এবং মুন্সীগঞ্জের তরুণদের আত্মবিশ্বাসে বিনিয়োগের কারণ, যাতে আগামী বছরের সংখ্যাগুলো আরও ভালো গল্প বলে।

Photo: Biswarup Ganguly, CC BY 3.0, via Wikimedia Commons