এই লেখায় তুলে ধরা হয়েছে অক্টোবরের মাঝামাঝি ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্তন ক্যানসার সচেতনতা মাস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো। সাখাওয়াত হুসাইনের প্রকাশ্য বক্তব্য, যা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড প্রকাশ করেছে। এটি কোনো একান্ত সাক্ষাৎকার নয়, এবং সব উদ্ধৃতি অনুষ্ঠান থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী।

সচেতনতা কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতা নিয়ে: মন্ত্রী বলেন, শুধু সভা, সেমিনার ও টেলিভিশন সম্প্রচার দিয়ে যথেষ্ট সচেতনতা তৈরি করা সম্ভব নয়। গ্রামাঞ্চলসহ সব জায়গায় নারীদের সচেতন করতে চিকিৎসকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

চিকিৎসকেরা কী করতে পারেন: তিনি চিকিৎসকদের আহ্বান জানান, ‘বছরে অন্তত দুই থেকে তিন দিন নিজের গ্রামে ফিরে যান.’ তিনি বলেন, ‘স্থানীয় নারীদের একত্র করুন এবং তাঁদের স্তন ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ ও নিজের স্তন সম্পর্কে কীভাবে সচেতন থাকতে হয় তা শেখান.’ এই কাজ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এটি মানবতার সেবা এবং একটি মহৎ কাজ.’

সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে: মন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্য অবকাঠামোর উন্নয়ন, চিকিৎসক ও মিডওয়াইফ নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের পাশাপাশি সরকার তৃণমূল পর্যায়ে স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিং চালুর পরিকল্পনা করছে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের বক্তব্য: প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা। এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, বাংলাদেশে প্রতি এক লাখ নারীর মধ্যে ১৫ জনের স্তন ক্যানসার শনাক্ত হয়, এবং আক্রান্ত নারীদের প্রায় ৬৩ শতাংশ কোনো ধরনের স্ক্রিনিং করান না, ফলে অনেক ক্ষেত্রে রোগ দেরিতে ধরা পড়ে। তিনি অসংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্তকরণ ও সময়মতো চিকিৎসার ওপর জোর দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা। নাসির উদ্দিন।

মুন্সীগঞ্জের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ: বছরে কয়েক দিন নিজ গ্রামে সময় দিতে চিকিৎসকদের প্রতি মন্ত্রীর আহ্বান ঢাকার হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের এত কাছের এই জেলায় সহজেই কাজে লাগানো যায়। মুন্সীগঞ্জের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কমিউনিটি ক্লিনিক, কলেজের স্বাস্থ্য ক্লাব ও নারী সংগঠনগুলো সংক্ষিপ্ত সচেতনতা সভার আয়োজন করতে পারে, আর পরিবারগুলো নারীদের প্রাথমিক লক্ষণ জানতে এবং কোনো পরিবর্তন চোখে পড়লে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে উৎসাহ দিতে পারে।

Photo: wishuponacupcake, CC BY 2.0, via Wikimedia Commons