কার্তিক, মধ্য অক্টোবর থেকে মধ্য নভেম্বর পর্যন্ত বাংলা মাসটি, মুন্সীগঞ্জে আলু ও অন্যান্য রবি ফসলের জন্য জমি তৈরির প্রচলিত সময়। এই ছবিঘরে বর্ষার পরের নীরবতা থেকে কৃষিবছরের সবচেয়ে ব্যস্ত মৌসুমে প্রবেশ করা বিক্রমপুরের মাঠগুলোকে অনুসরণ করা হয়েছে।
শুরুর ছবিগুলোতে দেখা যায় সদ্য চাষ করা জমি, আলুর পছন্দের হালকা ঝুরঝুরে দোআঁশ মাটিতে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ভোরে কৃষক ও শ্রমিকেরা সারি ধরে হাঁটছেন, জমি সমান করছেন, বেড চিহ্নিত করছেন, আর খেতের ধারে অপেক্ষা করছে বীজ আলুর বস্তা।
এরপর কাজের কাছ থেকে তোলা ছবি: বীজ আলু কাটছে হাত, জৈব সারের ঝুড়ি, আর পরিপাটি নালা যেখানে বীজ বসিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় কৃষি পরামর্শ অনুযায়ী হেক্টরপ্রতি প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার কেজি বীজ লাগে, ফলন বাড়াতে সুষম সার ও জৈব সারের ব্যবহার করা হয়। এলাকায় ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, গ্রানোলাসহ বিভিন্ন জাতের আলু চাষ হয়।
কাজের পরিসর বিস্ময়কর। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত মৌসুমে মুন্সীগঞ্জের কৃষকেরা ৩৪ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে আলু লাগিয়েছিলেন, যার প্রায় পাঁচ ভাগের চার ভাগই মুন্সীগঞ্জ সদর, টঙ্গিবাড়ী ও সিরাজদিখানে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই মাঠগুলো সবুজ পাতায় ভরে উঠবে, আর সাধারণত রোপণের প্রায় তিন মাস পর আলু তোলার উপযোগী হয়।
অন্য ছবিগুলোতে ধরা পড়েছে বিস্তৃত প্রকৃতি: সেচের নালা পরিষ্কার করা হচ্ছে, মাঠের ওপারে দাঁড়িয়ে আছে হিমাগার, আর দিগন্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা সারিগুলোর ওপর পড়ছে বিকেলের আলো। প্রতিবেশীরা যন্ত্রপাতি ও শ্রম ভাগাভাগি করছেন, আর খেতের আল হয়ে উঠছে চা আর গল্পের আসর।
প্রযুক্তিও পৌঁছে যাচ্ছে মাঠে। কৃষি মন্ত্রণালয় ২ নভেম্বর জানিয়েছে, সরকারের কৃষক কার্ড কর্মসূচিতে নিবন্ধিত কৃষকেরা স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতি ছয় ঘণ্টা পরপর মোবাইলে এসএমএসে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাবেন, যা তাঁদের রোপণ ও সেচের পরিকল্পনায় সাহায্য করবে।
ছবিঘরের শেষ ছবিটি খেতের ধারে বিশ্রাম নেওয়া এক কৃষকের, যা মনে করিয়ে দেয়, মুন্সীগঞ্জের প্রতিটি বস্তা আলুর শুরু কার্তিকের কয়েক সপ্তাহের ধৈর্যশীল পরিশ্রমে।
Photo: Olivier, CC BY 2.0, via Wikimedia Commons