বিক্রমপুর বেশি পরিচিত রাজা, বিহার আর বিজ্ঞানীদের জন্য। তবে এ অঞ্চলে শিকড় আছে এমন বাঙালি লেখকের সংখ্যাও কম নয়। কেউ এখানে জন্মেছেন, কেউ অন্য জায়গায় বড় হলেও পরিবারের পরিচয় জড়িয়ে ছিল বিক্রমপুরের কোনো গ্রামের সঙ্গে। এখানে এমন পাঁচজনের কথা।

বুদ্ধদেব বসু (১৯০৮ থেকে ১৯৭৪)

তৎকালীন ত্রিপুরা জেলার কুমিল্লায় জন্ম নেওয়া বুদ্ধদেব বসুর পৈতৃক নিবাস ছিল বর্তমান সিরাজদিখান উপজেলার মালখানগরে। রবীন্দ্রনাথের পরে বাংলা কবিতাকে আধুনিকতার পথে নিয়ে যাওয়া কবিদের তিনি অন্যতম। ১৯৩৫ সালের অক্টোবরে তিনি ‘কবিতা’ পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন, যা ১৯৬১ সাল পর্যন্ত চলে। ১৯৫৬ সালে কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগ গড়ে তোলেন। ১৯৬৭ সালে সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার এবং ১৯৭০ সালে পদ্মভূষণ পান।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮ থেকে ১৯৫৬)

দুমকায় জন্ম নেওয়া প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের পৈতৃক বাড়ি ছিল বিক্রমপুরের মালপদিয়া গ্রামে। প্রায় ২৮ বছরের লেখকজীবনে তিনি ৩৮টি উপন্যাস ও প্রায় ৩০৬টি ছোটগল্প লেখেন। পদ্মার জেলেদের জীবন নিয়ে লেখা ‘পদ্মানদীর মাঝি’ (১৯৩৬) এবং ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ (১৯৩৬) আজও বাংলা ভাষার সবচেয়ে পঠিত উপন্যাসগুলোর মধ্যে।

সমরেশ বসু (১৯২৪ থেকে ১৯৮৮)

বিক্রমপুরে জন্ম নেওয়া সমরেশ বসু ইছাপুরের একটি কারখানায় কাজ করতেন এবং ট্রেড ইউনিয়ন রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। পরে পুরোপুরি লেখালেখিতে আসেন। তিনি ১০০টির বেশি উপন্যাস ও ২০০টির বেশি ছোটগল্প লেখেন, কিছু লেখা ‘কালকূট’ ছদ্মনামে। কিশোরদের জন্য তৈরি করেন গোয়েন্দা চরিত্র গোগোল। ‘শাম্ব’ উপন্যাসের জন্য ১৯৮০ সালে সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার পান।

হুমায়ুন আজাদ (১৯৪৭ থেকে ২০০৪)

বর্তমান শ্রীনগর উপজেলার রাড়িখালে জন্ম নেওয়া হুমায়ুন কবির পরে হুমায়ুন আজাদ নামে পরিচিত হন। তিনি এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাষাবিজ্ঞানে ডক্টরেট করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলার অধ্যাপক ছিলেন। কবিতা, কথাসাহিত্য, সমালোচনা ও ভাষাবিজ্ঞান মিলিয়ে ৭০টির বেশি বই লিখেছেন, যার মধ্যে নারীবাদী গ্রন্থ ‘নারী’ উল্লেখযোগ্য। ১৯৮৬ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান এবং ২০০৪ সালে মৃত্যুর পর ২০১২ সালে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদক দেওয়া হয়। নিজ গ্রামেই তিনি সমাহিত।

ইমদাদুল হক মিলন (জন্ম ১৯৫৫)

১৯৫৫ সালের সেপ্টেম্বরে বিক্রমপুরে জন্ম নেওয়া মিলনের শৈশবের একটি অংশ কেটেছে ঢাকার গেন্ডারিয়ায়। জনপ্রিয় প্রেমের উপন্যাস থেকে শুরু করে ‘একাত্তর ও একজন মা’র মতো মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস মিলিয়ে তিনি ২০০টির বেশি বই লিখেছেন। ১৯৯২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১৯ সালে একুশে পদক পান।

নদী আর গ্রামের এই জনপদ যে এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে ঢাকা ও কলকাতা দুই শহরের সাহিত্যজীবনকেই সমৃদ্ধ করেছে, এই লেখকেরা তারই উদাহরণ।

সূত্র: en.wikipedia.org, en.wikipedia.org, en.wikipedia.org, en.wikipedia.org