বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) তাদের উদ্ভাবিত চীনাবাদামের জাত বারি চীনাবাদাম-৯-এর জন্য ‘ক্রপ ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড প্রোডাকশন টেকনোলজি’ শ্রেণিতে আইএসএসসিএ গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ পেয়েছে।
নয়াদিল্লিতে ১০ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ড্রাইল্যান্ড কংগ্রেস ২০২৬-এ পুরস্কারটি দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক শুষ্ক অঞ্চল ফসল গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইক্রিস্যাট এবং এর দক্ষিণ-দক্ষিণ কৃষি সহযোগিতা উৎকর্ষ কেন্দ্র আইএসএসসিএ যৌথভাবে আয়োজনটি করে। ১৪ সেপ্টেম্বর গাজীপুরে প্রধান কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বারি পুরস্কারের খবর জানায়।
উন্নয়নশীল বিশ্বের প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত
বারি জানিয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে আসা প্রতিযোগিতামূলক মনোনয়নের মধ্য থেকে ক্ষুদ্র কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকার জন্য জাতটি বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, বারি চীনাবাদাম-৯ প্রতিকূল পরিবেশ সহ্য করতে পারে এবং শুষ্ক অঞ্চলের কৃষকদের উৎপাদন বাড়ানো, খাদ্যনিরাপত্তা জোরদার ও জলবায়ু সহনশীলতা গড়তে ভূমিকা রেখেছে।
আইএসএসসিএ গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড এমন কৃষি উদ্ভাবনকে স্বীকৃতি দেয়, যা মাঠে ইতিমধ্যে কার্যকর প্রমাণিত এবং একই ধরনের পরিস্থিতির অন্য দেশেও গ্রহণ করা যেতে পারে। কেন্দ্রটি এক উন্নয়নশীল দেশের পরীক্ষিত সমাধান খুঁজে বের করে তা তাপ, পানির সংকট ও দুর্বল মাটির সমস্যায় থাকা অন্য দেশের সঙ্গে যুক্ত করার কাজ করে।
বারির মহাপরিচালক ড. মো. মনজুরুল কাদির বলেন, এই পুরস্কার প্রতিষ্ঠানের গবেষণার উৎকর্ষের প্রতীক। তাঁর মতে, বারি চীনাবাদাম-৯ দেখিয়েছে যে স্থানীয় প্রয়োজন মাথায় রেখে করা কৃষি গবেষণা শুষ্ক অঞ্চলের উৎপাদনশীলতা বদলে দিতে পারে। খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষক সমাজের স্বার্থে বারি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন চালিয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।
চীনাবাদাম কেন গুরুত্বপূর্ণ
চীনাবাদাম দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেলবীজ ও অর্থকরী ফসল। নদীর বালুময় চর ও হালকা মাটিতে, যেখানে অনেক ফসল ভালো হয় না, সেখানে এটি ব্যাপকভাবে চাষ হয়। তাই পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার নতুন জেগে ওঠা চরে চাষ করা পরিবারগুলোর কাছে এ ফসলের আলাদা মূল্য আছে। প্রতিকূলতার মধ্যেও ফলন দেয় এমন জাত সেসব এলাকার আয়ে বড় পার্থক্য আনতে পারে।
বারি দেশের সবচেয়ে বড় বহু ফসলভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান। কন্দাল ফসল, ডাল, তেলবীজ, সবজি, ফল ও মসলাসহ ২১২টির বেশি ফসল নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি গবেষণা করে। মুন্সীগঞ্জের কৃষকদের প্রধান ফসল আলুও বারির গবেষণার আওতায় রয়েছে।
এই পুরস্কার দেশের সরকারি কৃষি গবেষণাব্যবস্থার জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের সঙ্গে পরীক্ষিত ফসল প্রযুক্তি ভাগাভাগিতে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার ইঙ্গিত।
সূত্র: bari.gov.bd, icrisat.org