বাংলালিংকের মালিক আন্তর্জাতিক টেলিকম গোষ্ঠী ভিয়ন বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে ২৫ কোটি ডলার বিনিয়োগের অঙ্গীকার করেছে এবং এই খাতে ১০০ কোটি ডলার সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আনার লক্ষ্য ঠিক করেছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সপ্তাহে ২০২৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে বাংলালিংকের সঙ্গে আয়োজিত এক বিনিয়োগকারী সভায় প্রতিষ্ঠানটি এই পরিকল্পনা ঘোষণা করে।

উদ্যোগটির নাম "ইনভেস্ট ইন বাংলাদেশ নাউ"। ভিয়ন জানিয়েছে, সভায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সরকারের কর্মকর্তারা, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধিরা এবং ব্ল্যাকরক, রথসচাইল্ড, আন্তর্জাতিক অর্থ সংস্থা (আইএফসি) ও বিশ্বব্যাংকসহ বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

তিনটি ঘোষণা

সভায় ভিয়ন বাংলাদেশে তাদের তিনটি অগ্রগতি তুলে ধরে:

  • সাধারণ ফোরজি ফোনের জন্য স্যাটেলাইট সেবা স্টারলিংক ডিরেক্ট-টু-সেল চালুর জন্য টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন
  • ভিয়ন ও স্কয়ার গ্রুপের যৌথ উদ্যোগ নোভা ডিজিটাল ব্যাংকের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাথমিক সম্মতি
  • বাংলালিংকের ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম মুক্ত পে চালু, যার মাধ্যমে টাকা পাঠানো, দোকানে মূল্য পরিশোধ, বিল পরিশোধ ও একসঙ্গে বহু মানুষকে অর্থ বিতরণ করা যাবে

প্রতিষ্ঠানটি যা বলেছে

ভিয়নের প্রধান নির্বাহী কান তেরজিওগলু বলেছেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় সুযোগ তৈরি করেছে। ভিয়নের চেয়ারম্যান অগি কে ফাবেলা দ্বিতীয় দেশের ১৭ কোটির বেশি জনসংখ্যা, তরুণ কর্মশক্তি ও দ্রুত বাড়তে থাকা ডিজিটাল অর্থনীতির কথা উল্লেখ করেন।

২৫ কোটি ডলার ভিয়নের নিজস্ব প্রাথমিক অঙ্গীকার। ১০০ কোটি ডলারের লক্ষ্যের বাকি অংশ নির্ভর করবে অন্য বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে অর্থ বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন কি না তার ওপর। প্রতিষ্ঠানটি এখনো অন্য কোনো অঙ্গীকারের কথা জানায়নি।

প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাত বিনিয়োগ-সংকটে রয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে দেশের স্টার্টআপগুলো খুব সামান্য ভেঞ্চার তহবিল পেয়েছে, আর মোবাইল অপারেটররা বলছে, উচ্চ স্পেকট্রাম ফির কারণে নেটওয়ার্কে ব্যয় সীমিত হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে মোবাইল আর্থিক সেবা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, মুন্সীগঞ্জেও, যেখানে পরিবারগুলো ঢাকা ও বিদেশে থাকা স্বজনদের কাছ থেকে টাকা পায়। মুক্ত পে, বিদ্যমান মোবাইল ওয়ালেট ও নতুন ডিজিটাল ব্যাংকের মধ্যে প্রতিযোগিতা এসব ব্যবহারকারীর জন্য ফি ও সেবার মানে প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: veon.com