বাংলাদেশের বেশির ভাগ জাদুঘর রাষ্ট্র পরিচালনা করে। শ্রীনগর উপজেলার বিক্রমপুর জাদুঘর এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। এটি প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করে স্থানীয় সংগঠন অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন, আর ভবন নির্মাণে অর্থ দিয়েছে সরকার।
কোথায়
জাদুঘরটি শ্রীনগরের রাঢ়ীখাল ইউনিয়নের উত্তর বালাসুর গ্রামে। এটি গড়ে উঠেছে একটি জমিদার পরিবারের পুরোনো বাড়িতে, যে পরিবারের সর্বশেষ জমিদার ছিলেন যদুনাথ রায়। বিশাল পুরোনো ভবন, মন্দির ও দিঘিসহ বাড়িটি কয়েক দশক পরিত্যক্ত ছিল। পরে ফাউন্ডেশন সম্পত্তিটি ইজারা নিয়ে সংস্কার করে জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলে। প্রাঙ্গণে একটি অতিথিশালাও রয়েছে।
কারা চালায়
অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন বিক্রমপুরের একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। জাদুঘরের বাইরে এর সবচেয়ে পরিচিত কাজ প্রত্নতত্ত্বে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ফাউন্ডেশন এ অঞ্চলে কয়েক মৌসুম খননকাজ চালায়। ২০১৩ সালের মার্চে দলটি রামপাল ইউনিয়নের রঘুরামপুর গ্রামে একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার আবিষ্কারের ঘোষণা দেয়, যা এখন বিক্রমপুর বিহার নামে পরিচিত।
জাদুঘর সেই কাজকে সর্বসাধারণের সামনে এনেছে। এর লক্ষ্য বিক্রমপুরের ইতিহাস সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করা: এ অঞ্চলের মাটি খুঁড়ে পাওয়া পুরোনো নৌকা, কাঠ ও পাথরের ভাস্কর্য, পোড়ামাটির নিদর্শনের মতো প্রত্নবস্তু, সেই সঙ্গে লোকজীবন, শিক্ষা ও সংস্কৃতির উপকরণ এবং বিক্রমপুরে জন্ম নেওয়া বহু খ্যাতিমান মানুষের পরিচিতি।
শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের জায়গা
বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষা সফর, সামাজিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠান হয় জাদুঘর প্রাঙ্গণে। দেশের নানা প্রান্ত এবং ভারত থেকেও দর্শনার্থীরা আসেন। প্রবাসে থাকা বিক্রমপুরের মানুষের কাছে এটি এমন অল্প কয়েকটি জায়গার একটি, যেখানে এ অঞ্চলের দীর্ঘ অতীত এক ছাদের নিচে পাওয়া যায়।
স্থানীয় একটি সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারের সঙ্গে মিলে কী করতে পারে, এই জাদুঘর তার উদাহরণ। আবার এর টিকে থাকাও নির্ভর করে সেই অংশীদারত্ব বজায় থাকার ওপর। পুরোনো ভবনে বেসরকারিভাবে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানের সংগ্রহ নিরাপদ রাখতে ও দরজা খোলা রাখতে নিয়মিত সহায়তা দরকার।
যাঁরা যেতে চান, যাত্রার আগে জাদুঘরের সঙ্গে যোগাযোগ করে খোলা থাকার দিন জেনে নেওয়ার পরামর্শ রইল।
সূত্র: bn.wikipedia.org, en.wikipedia.org