দেশজুড়ে টেলিযোগাযোগ ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ফাইবার@হোম লিমিটেড জানিয়েছে, তারা দেশের প্রথম এল-ব্যান্ড ডেন্স ওয়েভলেংথ ডিভিশন মাল্টিপ্লেক্সিং (ডিডব্লিউডিএম) নেটওয়ার্ক চালু করেছে। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটি এ ঘোষণা দেয়। প্রযুক্তি সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে নকিয়া।

নেটওয়ার্কে কী বদলাচ্ছে

ডিডব্লিউডিএম প্রযুক্তিতে একটি অপটিক্যাল ফাইবারের ভেতর দিয়ে একসঙ্গে অনেকগুলো তথ্যপ্রবাহ পাঠানো যায়, প্রতিটি আলাদা তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোয়। বেশির ভাগ নেটওয়ার্ক শুধু সি-ব্যান্ডের তরঙ্গদৈর্ঘ্য ব্যবহার করে। পাশের এল-ব্যান্ড যুক্ত করায় নিজেদের বিদ্যমান ফাইবারেই ব্যবহারযোগ্য অপটিক্যাল স্পেকট্রাম কার্যত দ্বিগুণ হয়েছে বলে জানিয়েছে ফাইবার@হোম। এ জন্য নতুন করে মাটি খুঁড়ে তার বসানোর মতো বড় নির্মাণকাজ লাগেনি।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, উন্নত ব্যবস্থায় প্রতিটি তরঙ্গদৈর্ঘ্যে চ্যানেলের গতি ৮০০ গিগাবিট থেকে ১.২ টেরাবিট প্রতি সেকেন্ড। প্রথম ধাপে সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন, ডেটা সেন্টার ও প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোর মধ্যে বেশি চাপের রুটগুলোতে এটি চালু হয়েছে। মহানগর ও আঞ্চলিক ট্রান্সমিশন রিংয়ে সম্প্রসারণের কাজ চলছে।

ফাইবার@হোম বলছে, প্রকল্পের অংশ হিসেবে রুট পুনর্বিন্যাসের ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আসা-যাওয়ার বিলম্ব ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, ৫ ন্যানোমিটার চিপে তৈরি নকিয়ার অপটিক্যাল যন্ত্রে প্রতি বিটে বিদ্যুৎ খরচ ৩৫ শতাংশ কম। এতে ডেটা সেন্টার ও এক্সচেঞ্জে তাপ ও শীতলীকরণের চাহিদাও কমে।

অংশীদারেরা যা বললেন

ফাইবার@হোমের চেয়ারম্যান মইনুল হক সিদ্দিকী এই উদ্যোগকে একটি যুগান্তকারী কারিগরি অর্জন এবং দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নকিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রধান মিং কিন এনগিয়াম বলেন, এই প্রযুক্তির ফলে ফাইবার@হোম বিদ্যমান ফাইবার থেকেই বাড়তি সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারবে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

ট্রান্সমিশন অপারেটরেরা মোবাইল টাওয়ার, ইন্টারনেট সেবাদাতা, ডেটা সেন্টার এবং বাংলাদেশকে বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত করা সাবমেরিন কেবলের মধ্যে ডেটা বহন করে। ভিডিও, ক্লাউড সেবা ও মোবাইল ডেটার ব্যবহার বাড়ায় মূল নেটওয়ার্ককে খরচ সমানভাবে না বাড়িয়ে আরও বেশি ডেটা বহন করতে হচ্ছে। মাটির নিচে থাকা তার থেকেই বেশি সক্ষমতা বের করা সাধারণত নতুন তার বসানোর চেয়ে সস্তা ও দ্রুত।

মুন্সীগঞ্জের মতো জেলার ব্যবহারকারীদের জন্য মূল নেটওয়ার্কের উন্নয়নের প্রভাব পরোক্ষ। দ্রুত ও কম জটের জাতীয় সংযোগ স্থানীয় ইন্টারনেট সেবাদাতা ও মোবাইল অপারেটরদের আরও স্থিতিশীল সেবা দিতে সাহায্য করতে পারে। তবে গ্রাহক ঘরে বসে কেমন সেবা পাবেন, তা এখনো অনেকটা নির্ভর করে শেষ প্রান্তের সংযোগ, দাম ও স্থানীয় নেটওয়ার্কের মানের ওপর।

সূত্র: fiberathome.net, nokia.com, en.wikipedia.org