মেঘনা নদীর তীরবর্তী মুন্সিগঞ্জের চরাঞ্চলে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। বাংলাদেশ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, দেশের নদীভাঙনের জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা ২০টি জেলার মধ্যে মুন্সিগঞ্জও রয়েছে।
প্রতি বছর হারাচ্ছে শত হেক্টর জমি
প্রতি বছর সারা দেশে নদীভাঙনে প্রায় ৮,৭০০ হেক্টর জমি বিলীন হয় এবং ২ লাখেরও বেশি মানুষ বাড়িঘর হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হন। মেঘনার ক্ষেত্রে নদীর ডান ও বাঁ তীরে গড় ভাঙনের হার যথাক্রমে বছরে ৯ মিটার ও ৭ মিটার। জুন থেকে অক্টোবর — এই বর্ষা মৌসুমেই বেশিরভাগ বড় ধসের ঘটনা ঘটে।
স্কুল, বাজার, কৃষিজমি হারাচ্ছে গ্রামবাসী
উপকূলীয় গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, বছরের পর বছর ভাঙনের ফলে বাজার, স্কুল-কলেজ ও কৃষিজমি একে একে নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। অনেক পরিবার জীবনে একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। শিক্ষাব্যবস্থার ওপরও এর তীব্র প্রভাব পড়ছে — স্কুল ভেঙে যাওয়ায় বহু শিশু পড়াশোনা থেকে দূরে সরে যায়।
প্রতিরক্ষা প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে অতীতে যমুনা-মেঘনা নদী ভাঙন প্রশমন প্রকল্পে জিও-ব্যাগ ব্যবহার করে তীর সুরক্ষার কাজ হয়েছে। এই পদ্ধতি কার্যকর প্রমাণিত হলেও দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এর টেকসইতা প্রশ্নবিদ্ধ। স্থানীয়রা মনে করেন, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পর্যাপ্ত বরাদ্দ ছাড়া সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেঘনা একটি অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল নদী হলেও পাদ্মা-মেঘনা সঙ্গমস্থল এবং নিম্ন মেঘনার গতিপথ গত পাঁচ দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে ১৯৭৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত এই এলাকায় বিশাল আকারের ভাঙন ও জমি গঠনের প্রক্রিয়া দেখা গেছে।