এবারের ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের বাংলাদেশিরা পেয়েছেন অঙ্গরাজ্য আইনসভার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটে গৃহীত এক প্রস্তাবে গভর্নর ক্যাথি হোকুলকে ২০২৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বরকে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ‘বাংলাদেশি অভিবাসী দিবস’ ঘোষণা এবং অঙ্গরাজ্যের উন্নয়নে বাংলাদেশি আমেরিকানদের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জে১৮০৬ নম্বর এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন কুইন্সের ১১ নম্বর সিনেট ডিস্ট্রিক্টের ডেমোক্র্যাট সিনেটর টোবি অ্যান স্ট্যাভিস্কি। ২০২৬ সালের ১৯ মার্চ এটি অর্থ কমিটিতে পাঠানো হয় এবং ২৪ মার্চ গৃহীত হয়।
প্রস্তাবে যা বলা হয়েছে
প্রস্তাবে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর বাস নিউইয়র্ক সিটিতে, আর এর সবচেয়ে পরিচিত এলাকা কুইন্সের জ্যাকসন হাইটস। অঙ্গরাজ্যজুড়ে আড়াই লাখের বেশি বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া অভিবাসী বাস করেন এবং ২০২৬ সালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারত্বের পাঁচ দশকের বেশি পূর্ণ হচ্ছে।
তারিখটি বেছে নেওয়ার পেছনে কারণ আছে। ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর, জাতিসংঘের সদস্যপদ পাওয়ার কয়েক দিন পর, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা নেতা শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রথমবারের মতো বাংলায় ভাষণ দেন। প্রস্তাবে এই ভাষণকে বিশ্বের বাংলাভাষীদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রস্তাবে নিউইয়র্কের সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তধারা ফাউন্ডেশনেরও স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যারা ২০ বছরের বেশি সময় ধরে উৎসব ও সামাজিক আয়োজনের মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রসারে কাজ করছে। প্রস্তাবের অনুলিপি গভর্নর এবং ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী বিশ্বজিৎ সাহার কাছে পাঠানো হয়।
এ ধরনের প্রস্তাবের প্রভাব
এ ধরনের সিনেট প্রস্তাব মূলত একটি আনুষ্ঠানিক অনুরোধ ও স্বীকৃতির বিবৃতি। এর ফলে সরাসরি কোনো সরকারি ছুটি তৈরি হয় না বা কোনো আইন বদলায় না। গভর্নর ঘোষণা দেবেন কি না, সেটি গভর্নরের দপ্তরের আলাদা সিদ্ধান্ত।
বিক্রমপুরের গভীর শিকড়
নিউইয়র্কের বাংলাদেশিরা মূলত কুইন্স, ব্রুকলিন ও ব্রংকসে থাকেন। জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা, কেনসিংটন ও পার্কচেস্টারে তাঁদের বড় বসতি রয়েছে। অনেক পরিবারের শিকড় মুন্সীগঞ্জ ও বৃহত্তর বিক্রমপুরে। জেলার প্রবাসী সংগঠনগুলো দশকের পর দশক ধরে এই শহরে কল্যাণ তহবিল, সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা এবং দেশের বিদ্যালয়গুলোর জন্য সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।
সম্প্রদায়ের অনেকের কাছে এবার তারিখটির বাড়তি তাৎপর্য রয়েছে। প্রস্তাবে নির্ধারিত দিনের ঠিক আগের দিন, ২৪ সেপ্টেম্বর, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ দেন।
সূত্র: nysenate.gov, en.wikipedia.org, en.wikipedia.org