লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্ত থেকে শুরু হয়ে শরীয়তপুরের জাজিরা পর্যন্ত বিস্তৃত পদ্মা বহুমুখী সেতু চালু হওয়ার চার বছর পেরিয়ে গেছে। ২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধনের পর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগে যে পরিবর্তন এসেছে, তা পরিসংখ্যানের পাশাপাশি স্থানীয় বাজার ও জনজীবনেও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।

৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুর ওপরের তলায় চার লেনের মহাসড়ক এবং নিচের তলায় একক রেললাইন রয়েছে। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং নির্মাণকাজ হিসেবে স্বীকৃত এই প্রকল্পে ১২৭ মিটার গভীর পাইল ব্যবহার করা হয়েছে — যা বিশ্বের যেকোনো সেতুর তুলনায় সর্বাধিক।

স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাব

মাওয়া এলাকার পথের ধারে এখন সারিবদ্ধ হোটেল, রিসোর্ট ও ছোট ছোট দোকান। আগে যেখানে ফেরির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা ছিল রুটিন, এখন সেখানে কয়েক মিনিটেই সেতু পার হওয়া যায়। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, সেতু চালুর পর মাওয়া এলাকায় পর্যটক সংখ্যা বহুগুণ বেড়েছে। বিশেষ করে শীতকালে দিনে কয়েকশো গাড়ি শুধুমাত্র সেতু দেখার জন্য আসে।

সিমেন্ট, ইস্পাত ও কৃষিপণ্যের নতুন বাজার

মুন্সিগঞ্জে উৎপাদিত সিমেন্ট, ইস্পাত ও ইট এখন সহজেই পদ্মার ওপারে চলে যাচ্ছে। অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলের সবজি, মাছ ও কৃষিপণ্য পাঁচ-ছয় ঘণ্টায় ঢাকার কারওয়ান বাজারে পৌঁছায়। এর ফলে দুই পাড়ের কৃষক ও ব্যবসায়ী উভয়ই সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন।

অর্থনীতিবিদদের পূর্ব-অনুমান অনুযায়ী, এই সেতু দেশের জিডিপিতে প্রায় ১.২৩ শতাংশ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ২ শতাংশ পর্যন্ত যোগ করছে। সেতু চালুর প্রথম বছরেই টোল আদায় থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা।

রেল সংযোগ

সেতুর নিচের তলার রেলপথটি ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৬৯ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু রেল সংযোগের অংশ। এই রেলপথ দিয়েই দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশের অনেক জেলা প্রথমবারের মতো রেল যোগাযোগের আওতায় এসেছে।