জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরের শেষ পূর্ণ দিন, শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ম্যানহাটনে জেপিমরগান চেজের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রাতরাশ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিলিত হন।

অতিথি তালিকা অনুযায়ী, বৈঠকে প্রায় ১৫টি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ছিলেন। এর মধ্যে ব্ল্যাকরক, পিমকো, টিপিজি, জেন স্ট্রিট, ম্যাককোয়ারি, গোল্ডেনট্রি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ও মেটলাইফ উল্লেখযোগ্য। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিনিয়োগবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটির চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।

বিনিয়োগকারীদের প্রতি বার্তা

প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বলেন, “বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত”। তিনি ১৮ কোটির বেশি মানুষের দেশ, তরুণ কর্মশক্তি, শক্ত তৈরি পোশাক শিল্প এবং দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে বাংলাদেশের অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।

তিনি জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। বিনিয়োগ বাড়াতে আস্থা, পূর্বানুমেয় পরিবেশ ও সঠিক শর্ত দরকার বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি স্বীকার করেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দেখতে চান নিয়মকানুন স্থিতিশীল কি না, বিনিয়োগ সুরক্ষিত কি না, পুঁজি সহজে চলাচল করতে পারে কি না এবং মুনাফা দেশে ফেরত নেওয়া যায় কি না।

এসব উদ্বেগের জবাবে তিনি সরকারের চলমান সংস্কারের কথা তুলে ধরেন:

  • নিয়মকানুন কমানো ও সহজ করা
  • বিনিয়োগকারীর সুরক্ষা জোরদার করা
  • কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নতি
  • মুনাফা ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা
  • সড়ক, বন্দর, বিদ্যুৎসহ অবকাঠামোর উন্নয়ন

বিনিয়োগের খাত

তিনি জ্বালানি, অবকাঠামো, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সেবা, জলবায়ু অর্থায়ন, উৎপাদন শিল্প, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিনিয়োগের সুযোগের কথা বলেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই হওয়া পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি এবং জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশকে বৃহত্তর এশীয় বাজারে প্রবেশের ঘাঁটি হিসেবে উপস্থাপন করেন।

বক্তব্যের শেষে তিনি বিনিয়োগকারীদের আস্থা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান। সরকার জানিয়েছে, আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অর্থমন্ত্রী ও বিনিয়োগবিষয়ক বিশেষ সহকারী সরাসরি যোগাযোগ রাখবেন।

দেশের জন্য তাৎপর্য

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের হিসাবে, চার দিনের সফরে তিনি প্রায় ৩০টি সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেন, এই বৈঠক তার একটি। মুন্সীগঞ্জের মতো জেলায় হিমাগার, সিমেন্ট, জাহাজ নির্মাণ ও ছোট কারখানা নির্ভর করে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ, ঋণ ও যোগাযোগের ওপর। নিউইয়র্কে দেওয়া সংস্কারের প্রতিশ্রুতি মাঠপর্যায়ে স্পষ্ট নিয়ম ও দ্রুত অনুমোদনে রূপ নেয় কি না, সেটিই হবে আসল পরীক্ষা।

সূত্র: en.wikipedia.org, en.wikipedia.org