২০২৭ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরু করে ৬ জুনের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ১ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ এ কথা জানান।
নতুন পরিকল্পনা
কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, রমজানের আগে তিন ধাপে প্রায় দুই হাজার ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন করা যেতে পারে, বাকিগুলোর ভোট হবে রমজানের পরে। মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে দেশের ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ২৭২টিতে নির্বাচন প্রয়োজন। প্রথম ধাপের ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে।
কমিশন নির্বাচনী বিধিমালাও সংশোধন করেছে। এখন চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ২৫ হাজার টাকা এবং সদস্য প্রার্থীকে ৫ হাজার টাকা জামানত দিতে হবে। চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর ২ লাখ টাকা।
সময়সূচি যেভাবে বদলাল
১৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে নির্বাচনের একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। পরদিন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, সময়সূচিটি একেবারেই প্রাথমিক। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, প্রস্তাবিত তারিখ সম্পর্কে সরকারকে জানানো হয়নি।
১৭ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় সভায় কমিশন শিক্ষাপঞ্জির সঙ্গে সময়ের সংঘাত নিয়ে আলোচনা করে। কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, যথাসম্ভব ৬ জুনের আগে, অর্থাৎ এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর আগেই নির্বাচন শেষ করার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। শিক্ষা কর্মকর্তারা অনুরোধ জানান, ভোটের কারণে যেন পরীক্ষা বা বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা বিদ্যালয়ের কার্যক্রম ব্যাহত না হয়। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ইসি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও আলোচনা করে।
মুন্সীগঞ্জের জন্য তাৎপর্য
মুন্সীগঞ্জের ছয় উপজেলার বেশির ভাগ মানুষের কাছে ইউনিয়ন পরিষদই সবচেয়ে কাছের নির্বাচিত সরকার। জন্মনিবন্ধন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির তালিকা, গ্রামীণ সড়ক ও গ্রাম আদালতের মতো কাজ ইউপি দেখে। ইউপি নির্বাচন শেষ হলে পৌরসভা নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে। মুন্সীগঞ্জের ইউনিয়নগুলো কোন ধাপে ভোট দেবে, তা এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
সূত্র: ecs.gov.bd, en.wikipedia.org, en.wikipedia.org