ঢাকা ও কলকাতার মধ্যে চলাচলকারী যাত্রীবাহী ট্রেন মৈত্রী এক্সপ্রেস আবার চালু হলে সেটি পদ্মা সেতু দিয়ে চালানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। রেলের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন পথে যাত্রার সময় প্রায় তিন ঘণ্টা কমে মোটামুটি ছয় ঘণ্টায় নেমে আসতে পারে।

ভারতের কাছে প্রস্তাব

সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে এক বৈঠকে সড়ক পরিবহন, সেতু ও রেলপথমন্ত্রী শাইখ রবিউল আলম এই প্রস্তাব তুলে ধরেন। মন্ত্রী বলেন, দুই শহরের মধ্যে অর্থনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করতেই পথ বদলের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তবে সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগবে। হাইকমিশনারও উল্লেখ করেন, পদ্মা সেতুর পথে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় বাঁচবে।

ঢাকার রেলভবনে দুই দেশের তিন দিনের আন্তঃসরকার রেলওয়ে সভায়ও প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা হয়। এতে বাংলাদেশের ১৫ সদস্যের এবং ভারতের ৯ সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। যাত্রীবাহী ট্রেন ছাড়াও মালবাহী ট্রেন, শুল্ক প্রক্রিয়া এবং রেলের কোচ আমদানি নিয়ে আলোচনা হয়। কর্মকর্তারা জানান, মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস আবার চালুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব।

বিক্রমপুরের ওপর দিয়ে ছোট পথ

এত দিন মৈত্রী এক্সপ্রেস টাঙ্গাইল ও যমুনা সেতু হয়ে উত্তরে, এরপর ঈশ্বরদী হয়ে পশ্চিমে গিয়ে দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করত। সময়সূচিতে প্রায় আট ঘণ্টা ধরা থাকলেও ওই পথে ট্রেনের চাপের কারণে প্রায়ই আরও বেশি সময় লাগত।

বিকল্প পথটি হলো পদ্মা সেতুর রেললাইন। এটি ঢাকা থেকে বেরিয়ে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া থেকে নদী পার হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দিয়ে যশোর ও বেনাপোল সীমান্তের দিকে গেছে। রেল সংযোগ চালুর পর থেকে ঢাকা-বেনাপোল রুটে ট্রেনের সময় উত্তরের পথের তুলনায় অনেক কমে গেছে।

মুন্সীগঞ্জের মানুষের জন্য এর অর্থ হবে, তাঁদের নিজেদের পদ্মার ওপর দিয়ে একটি আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী ট্রেন চলবে, এমন একটি লাইনে যা ইতিমধ্যে জেলাটিকে ঢাকা ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আরও কাছে এনেছে।

ট্রেনটির যাত্রী কারা

২০০৮ সালের এপ্রিলে পহেলা বৈশাখে মৈত্রী এক্সপ্রেস চালু হয়। এর মাধ্যমে ১৯৬৫ সালে বিচ্ছিন্ন হওয়া দুই দেশের যাত্রীবাহী রেল যোগাযোগ আবার শুরু হয়। রেলের হিসাবে ট্রেনটির যাত্রীদের প্রায় ৯৫ শতাংশই বাংলাদেশি, যাঁদের অনেকে চিকিৎসা, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা, ব্যবসা বা ভ্রমণের জন্য যাতায়াত করেন। যাত্রীদের অভিবাসন ও শুল্ক কার্যক্রম সীমান্তে না হয়ে প্রান্তিক স্টেশনে সম্পন্ন হয়, ফলে পথে বিরতির সময় কম লাগে।

পরিচালনা ব্যবস্থা অনুযায়ী ট্রেনটির বণ্টিত আয়ের ৭৫ শতাংশ পায় বাংলাদেশ রেলওয়ে, বাকি অংশ পায় ভারতীয় রেল। নতুন পথে প্রথম যাত্রার কোনো তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

সূত্র: en.wikipedia.org, en.wikipedia.org, railway.gov.bd