বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে। মার্কিন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি ২৩ সেপ্টেম্বর এ ঘোষণা দেয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের সময় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে চুক্তিটি সই হয়।
বোয়িং জানিয়েছে, নতুন ক্রয়াদেশে রয়েছে পাঁচটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার ও ছয়টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ। ২০২৬ সালের এপ্রিলে বিমান ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ দিয়েছিল, যার মধ্যে ছিল আটটি ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ ও চারটি ৭৩৭-৮। প্রায় ৩৭০ কোটি ডলারের ওই চুক্তির উড়োজাহাজ ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে আসার কথা। নতুনগুলো যোগ হওয়ায় বিমানের বোয়িং ক্রয়াদেশ দাঁড়াল ২৫টিতে। নতুন উড়োজাহাজগুলোর দাম ও সরবরাহের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যাঁরা ছিলেন
বোয়িংয়ের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটির চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এবং মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ। পরে বোয়িংয়ের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।
বিমানের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন এই সম্পূরক চুক্তিকে বহর নবায়ন ও রুট সম্প্রসারণে “একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ” বলে উল্লেখ করেন।
বোয়িংয়ের বাণিজ্যিক বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমালেন বলেন, অতিরিক্ত ৭৮৭ ও ৭৩৭ উড়োজাহাজ বিমানকে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও নমনীয়তা দেবে। বোয়িংয়ের দাবি, নতুন মডেলগুলো আগের উড়োজাহাজের তুলনায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কম জ্বালানি খরচ করে।
বহর পরিকল্পনা ও এয়ারবাস প্রসঙ্গ
বিমানের বহরে এখন ১৯টি উড়োজাহাজ আছে, যার বেশির ভাগই বোয়িং ৭৮৭, ৭৭৭ ও ৭৩৭। এগুলো মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন রুটে চলে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, দেশের বাড়তি চাহিদা ও নতুন রুট চালুর পরিকল্পনা থেকেই এই কেনাকাটা, ভবিষ্যতে এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে। দশটি এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে আলাদা আলোচনা চলছে।
২৮ সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, এখানে “কোনো লুকানো উদ্দেশ্য নেই”, বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বিমান চলাচল কেন্দ্র হতে হলে বহর বাড়াতেই হবে।
ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি সইয়ের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কমানোর বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে মার্কিন উড়োজাহাজ কেনাকে দেখা হচ্ছে। দেশে যাতায়াতে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থার ওপর নির্ভরশীল নিউইয়র্কসহ বিদেশে থাকা বিক্রমপুরের প্রবাসীরাও বিমানের বহর ও রুট পরিকল্পনার দিকে নজর রাখেন।
সূত্র: boeing.mediaroom.com, investors.boeing.com, en.wikipedia.org