প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্কে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১ এর ওয়ার্ল্ড লিডার্স ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিটে যোগ দেবেন বলে সরকার জানিয়েছে। আন্টালিয়া এক্সপো সেন্টারে কপ৩১ চলবে ৯ থেকে ২০ নভেম্বর, আর বিশ্বনেতাদের সম্মেলন হবে ১১ ও ১২ নভেম্বর। তুরস্ক সম্মেলনের আয়োজক ও সভাপতি, আর আলোচনায় সভাপতিত্ব করবে অস্ট্রেলিয়া।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ২ নভেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর হবে সংক্ষিপ্ত। তিনি জানান, বাংলাদেশ ঋণ নয়, অনুদান হিসেবে জলবায়ু অর্থায়নের দাবি জানাবে, কারণ যেসব দেশের নিঃসরণ নগণ্য তাদের আরও ঋণের বোঝায় ফেলা উচিত নয়। তিনি বলেন, ‘কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান প্রায় নেই বললেই চলে, তবু শেষ পর্যন্ত এর পরিণতির শিকার আমরাই হই.’
ঢাকা বড় নিঃসরণকারী দেশগুলোকে আন্তর্জাতিক জলবায়ু চুক্তির অঙ্গীকার পূরণের আহ্বান জানাবে এবং সহনশীলতা ও অভিযোজনে দেশের অগ্রগতি তুলে ধরবে। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং সৌর ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণের কথা তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রস্তুতি শুরু হয়েছে কয়েক সপ্তাহ আগেই। ১৭ সেপ্টেম্বরের আন্তমন্ত্রণালয় সভায় কর্মকর্তারা সম্মেলনের ব্লু জোনে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন এবং গ্রিন জোনে পাট মেলার পরিকল্পনা পর্যালোচনা করেন। নারী নেতৃত্ব ও স্থানীয়ভাবে নেতৃত্ব দেওয়া উদ্ভাবন তুলে ধরার বিষয়েও আলোচনা হয়। ২৯ অক্টোবর ঢাকায় প্রজাতন্ত্র দিবসের সংবর্ধনায় তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেনও আন্টালিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করেন।
মুন্সীগঞ্জের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ: এই জেলার দৈনন্দিন জীবন, কৃষি ও যাতায়াত গড়ে উঠেছে পদ্মা, মেঘনা ও ধলেশ্বরীকে ঘিরে। অভিযোজনের অর্থ যদি অনুদান হিসেবে আসে এবং স্থানীয় পর্যায়ে পৌঁছায়, তবে সেচের জন্য খাল সচল রাখা, কৃষিজমি রক্ষা এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সম্প্রসারণের মতো নদীঘেরা জেলার প্রয়োজনীয় কাজে তা সহায়ক হতে পারে। বিশ্বমঞ্চে পাট মেলা এটাও মনে করিয়ে দেয় যে প্রাকৃতিক আঁশের পণ্যের বিশ্বজুড়ে এখনো ক্রেতা আছে।
সরকার জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর যাত্রার আগে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিনিধিদল, সফরসূচি ও বাংলাদেশের আলোচনার অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।
Photo: NASA, Public domain, via Wikimedia Commons