বাংলাদেশ পুলিশে এখন ডিজিটাল জগতের জন্য তৈরি একটি ইউনিট আছে, আর এর কাঠামো মুন্সীগঞ্জসহ জেলা ও থানা পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক মাসের পরিকল্পনার পর অর্গানোগ্রাম অনুমোদনের পর ১ অক্টোবর পুলিশ সদর দপ্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সাইবার পুলিশ ইউনিটের উদ্বোধন করেন।
কাঠামো কেমন: ঢাকা থেকে ইউনিটের নেতৃত্ব দেবেন একজন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক। বিভাগীয় কার্যক্রমের নেতৃত্বে থাকবেন উপমহাপরিদর্শকেরা, আর জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপারেরা। অনুমোদিত অর্গানোগ্রামে ৪ হাজার ৫৯২টি পদ রয়েছে, যার মধ্যে ৪ হাজার ৩৬৩ জন পুলিশ সদস্য, ১২৫ জন পুলিশ নন এমন কারিগরি কর্মী এবং ১০৪ জন অন্যান্য বেসামরিক কর্মী। প্রথমে বিদ্যমান পুলিশ জনবল থেকে পদ পূরণ করা হবে, আর ম্যালওয়্যার ও ডার্ক ওয়েব বিশ্লেষকের মতো বিশেষজ্ঞদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।
ঘরের কাছে সেবা: পর্যায়ক্রমে প্রতিটি থানায় দুই থেকে তিনজন সাইবার তদন্ত কর্মকর্তা এবং দুই থেকে তিনজন সহকারী উপপরিদর্শক নিয়ে একটি সাইবার ডেস্ক থাকবে। মহানগর, বিভাগ ও জেলাগুলোতে আলাদা বিশেষায়িত সাইবার ইউনিটও থাকবে। মুন্সীগঞ্জের মানুষের জন্য এর অর্থ, সময়ের সঙ্গে অনলাইন সমস্যায় সহায়তা শুধু ঢাকায় নয়, স্থানীয় থানাতেই পাওয়া যাবে।
কী কী দেখবে: তদন্তের আওতায় থাকবে মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণা, ওটিপি প্রতারণা ও ফিশিং, আর অনলাইন জুয়া, ক্রিপ্টোকারেন্সি সংক্রান্ত অপরাধ ও ডার্ক ওয়েবের অপরাধের জন্য থাকবে আলাদা ইউনিট। অন্যান্য কাজের মধ্যে রয়েছে সাইবার টহল, ডিজিটাল ফরেনসিক, হুমকি বিশ্লেষণ, দুর্বলতা মূল্যায়ন এবং অনলাইন হয়রানি থেকে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা।
সহায়তা পাওয়ার উপায়: প্রস্তাবিত ২৪ ঘণ্টার সাইবার সাপোর্ট সেন্টার একটি শর্ট কোড, কল সেন্টার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইমেইলের মাধ্যমে সেবা ও আইনি পরামর্শ দেবে, এবং এর হটলাইন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর সঙ্গে যুক্ত থাকবে। নির্দিষ্ট শর্ট কোড এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
সম্পদ ও আইন: প্রস্তাবে বার্ষিক পৌনঃপুনিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৪৭ কোটি টাকা, আর চাওয়া হয়েছে ২ হাজার ৬৭টি যানবাহন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, সাইবার অপরাধগুলো আরও সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করতে সাইবার নিরাপত্তা আইন হালনাগাদ করা হচ্ছে।
এর মধ্যে নিরাপদ থাকতে: ব্যাংক বা মোবাইল ওয়ালেটের লোক পরিচয় দিলেও কাউকে ওটিপি বা পিন জানাবেন না। লিংকে ক্লিক করার আগে যাচাই করুন, বিশেষ করে পুরস্কার, জরিমানা বা পার্সেলসংক্রান্ত বার্তায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ও টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন ব্যবহার করুন, আর কোনো সমস্যা হলে স্ক্রিনশট ও লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণ করুন, যাতে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে।
Photo: Shixart1985, CC BY 2.0, via Wikimedia Commons