ইলিশের ডিম ছাড়ার ভরা মৌসুমে মাছটিকে রক্ষা করতে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদের সভাপতিত্বে ইলিশ সম্পদ উন্নয়নবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর তা জানানো হয়।

নিষেধাজ্ঞার সময় সারা দেশে ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত, কেনা, বেচা ও বিনিময় সবই নিষিদ্ধ।

সময় বেছে নেওয়ার পেছনের বিজ্ঞান

ইলিশ (Tenualosa ilisha) বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। এটি সাগরে বাস করে ও খাবার খায়, কিন্তু প্রজননের জন্য নদীতে উঠে আসে। প্রাপ্তবয়স্ক ইলিশ বঙ্গোপসাগর থেকে মেঘনা, পদ্মা ও সংযুক্ত নদীতে ঢোকে এবং মোটামুটি ৫০ থেকে ১০০ কিলোমিটার উজানে গিয়ে মিঠা পানিতে ডিম ছাড়ে। প্রায় ৯ সেন্টিমিটারের ছোট বাচ্চা ইলিশকে বলা হয় জাটকা। এরা নদীতে বড় হয়ে আবার সাগরে ফিরে যায়।

মৎস্য কর্তৃপক্ষ শরতের প্রধান নিষেধাজ্ঞা এমন সময়ে দেয়, যখন সবচেয়ে বেশি ডিমওয়ালা পরিণত মা ইলিশ নদীতে চলাচল করে। কয়েক সপ্তাহ এদের নির্বিঘ্নে থাকতে দিলে তারা ডিম ছাড়তে পারে এবং পরের মৌসুমের ইলিশের জোগান তৈরি হয়।

এটি কয়েকটি ব্যবস্থার একটি। বাংলাদেশে জাটকা ধরাও নিষিদ্ধ এবং নির্দিষ্ট মাসে মাছ ধরা সীমিত রেখে নদীতে অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। পদ্মা ও মেঘনা দুই নদীর তীরে অবস্থিত মুন্সীগঞ্জের বহু জেলে পরিবারের সারা বছরের কাজের হিসাব এসব নিয়মের ওপর নির্ভর করে।

নজরদারি ও সহায়তা

টাস্কফোর্স বরিশাল, চাঁদপুর ও ভোলার প্রধান প্রজনন এলাকাগুলোকে বেশি নজরদারির প্রয়োজনীয় স্থান হিসেবে চিহ্নিত করেছে। জেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর, নৌ পুলিশ ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করবে। প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ প্রজনন এলাকায় বাড়তি নৌযান পাঠানো হবে। নিষিদ্ধ জাল তৈরি ও বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন কর্মকর্তারা।

নিষেধাজ্ঞার সময় যেসব জেলে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকবেন, সরকার তাঁদের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় খাদ্য সহায়তা দেবে।

বিশ্বের ইলিশ আহরণের বেশির ভাগই হয় বাংলাদেশে। গবেষক ও মৎস্য ব্যবস্থাপকেরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, উপকূল থেকে মুন্সীগঞ্জ পর্যন্ত নদীনির্ভর মানুষের জন্য ইলিশের জোগান স্থিতিশীল রাখার সবচেয়ে সরাসরি উপায় হলো মা ইলিশ ও জাটকা রক্ষা করা।

সূত্র: en.wikipedia.org, en.wikipedia.org