কার্তিক মাস শেষের দিকে আসায় মুন্সীগঞ্জের আলুচাষিরা বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের দিকে মন দিচ্ছেন: কতটা জমিতে আলু লাগাবেন। এই জেলা দেশের শীর্ষ আলু উৎপাদনকারী জেলাগুলোর একটি। এপ্রিলে প্রকাশিত বাসসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মৌসুমে কৃষকেরা ৩৪ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করেন, যা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ৩৪ হাজার ৬৫৫ হেক্টরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সামান্য বেশি। সবচেয়ে বেশি জমি ছিল মুন্সীগঞ্জ সদরে, ৯ হাজার ৫৮১ হেক্টর। এরপর টঙ্গিবাড়ীতে ৯ হাজার ৭০ এবং সিরাজদিখানে ৮ হাজার ৯৫৮ হেক্টর। বাকিটা লৌহজং, গজারিয়া ও শ্রীনগরে।

নতুন মৌসুমের শুরুতে ব্যবসায়িক চিত্র মিশ্র। এপ্রিলে ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে মুন্সীগঞ্জে প্রতি কেজি আলুর উৎপাদন খরচ প্রায় ১৯ টাকা বলা হয়, যেখানে উত্তরের জেলাগুলোতে তা ১৫ টাকা। জাতীয় পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক তথ্যে গত মৌসুমে উৎপাদন প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ টন, যা দেশের বার্ষিক ৮৫ থেকে ৯০ লাখ টন চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি।

রপ্তানি বাড়ছে, যদিও ভিত্তি এখনো ছোট। উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইংয়ের তথ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত ৫২ হাজার ২৯৩ টন আলু রপ্তানি হয়েছে, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৭ হাজার ২২৫ টন। সম্প্রতি ভিয়েতনামের বাজারও বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য খুলেছে।

আরেকটি বড় খরচ সংরক্ষণ। আগস্টে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন সরকারের কাছে বিদ্যুৎ বিলে ২০ শতাংশ ছাড়, আলু রপ্তানিতে নগদ প্রণোদনা ১০ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করা এবং কৃষকের ওপর বাড়তি চাপ এড়াতে হিমাগার ভাড়া প্রতি কেজি ৬ টাকা ৭৫ পয়সায় রাখার দাবি জানায়। সংগঠনটি জানায়, ১ জুন থেকে হিমাগারের বাণিজ্যিক বিদ্যুতের দাম ১৮ শতাংশ বেড়েছে। তারা সরকারের কৃষক কার্ড কর্মসূচিকে স্বাগত জানিয়ে আলুচাষিদের এর আওতায় আনার অনুরোধও করে।

মুক্তারপুর থেকে টঙ্গিবাড়ী পর্যন্ত হিমাগারগুলো মুন্সীগঞ্জের স্থানীয় অর্থনীতির কেন্দ্রে। তাই এই হিসাবগুলো ব্যাংকঋণ থেকে খেতমজুরের মজুরি পর্যন্ত সবকিছুতে প্রভাব ফেলে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবদুর রহিম কতটা জমিতে আলু চাষ হবে তা নির্ধারণে কৃষকের তথ্যভান্ডার ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছেন। গত মৌসুমে জেলায় ৬ হাজার ৭৮৩ হেক্টর জমিতে রপ্তানি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ উপযোগী জাতের আলু চাষ হয়েছিল। সতর্কভাবে জমির পরিকল্পনা, উন্নত জাত এবং শক্তিশালী রপ্তানি সংযোগই এই মৌসুমে চাষিদের লাভ রক্ষার সবচেয়ে বাস্তবসম্মত উপায়।

Photo: Dtarazona, Public domain, via Wikimedia Commons