আজ ১ অক্টোবর ২০২৬, দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে এস ডি বর্মন নামে পরিচিত সুরকার ও শিল্পী শচীন দেববর্মনের জন্মের ১২০ বছর পূর্ণ হলো। ১৯০৬ সালের ১ অক্টোবর আজকের বাংলাদেশের কুমিল্লায় তাঁর জন্ম। পূর্ববঙ্গের গ্রামবাংলার সুর আজীবন তাঁর সৃষ্টির কেন্দ্রে ছিল।
কুমিল্লায় শৈশব
শচীন দেববর্মন ত্রিপুরার রাজপরিবারের সন্তান। তাঁর বাবা নবদ্বীপচন্দ্র দেববর্মন। কুমিল্লাতেই তিনি বড় হন ও পড়াশোনা করেন। স্থানীয় বিদ্যালয়ের পর ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে ১৯২৪ সালে স্নাতক হন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পড়া শুরু করলেও সংগীতে মনোনিবেশ করতে তা ছেড়ে দেন।
কলকাতায় তিনি একাধিক গুরুর কাছে তালিম নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন শিল্পী কৃষ্ণচন্দ্র দে এবং সরোদশিল্পী ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, যিনি নিজেও আজকের বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ।
লোকসুর বড় পর্দায়
বাংলায় গায়ক ও সুরকার হিসেবে কাজ শুরুর পর তিনি বোম্বে, আজকের মুম্বাইয়ে যান এবং হিন্দি চলচ্চিত্রের শীর্ষ সুরকারদের একজন হয়ে ওঠেন। ত্রিশের দশকের শুরু থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি প্রায় ১০০টি চলচ্চিত্রে সুর করেন। এর প্রায় ২০টি বাংলা, বাকিগুলো হিন্দি। তাঁর চলচ্চিত্রের মধ্যে আছে পিয়াসা, গাইড ও আরাধনা।
সমালোচক ও তথ্যসূত্রগুলো প্রায়ই তাঁর রীতির একটি বৈশিষ্ট্যের কথা বলে: তিনি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের সঙ্গে বাংলা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের লোকসুর মিশিয়েছেন, যা তিনি তরুণ বয়সে কুমিল্লা ও ত্রিপুরায় শুনেছিলেন। হারমোনিয়ামের বদলে তাল আর হাততালি দিয়ে সুর তৈরির জন্যও তিনি পরিচিত ছিলেন।
তিনি শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক হিসেবে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার ও ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান এবং পদ্মশ্রী সম্মাননায় ভূষিত হন। লতা মঙ্গেশকর, কিশোর কুমার, মোহাম্মদ রফি ও আশা ভোঁসলের মতো সে যুগের শীর্ষ শিল্পীরা তাঁর গান গেয়েছেন।
পারিবারিক উত্তরাধিকার
তাঁর একমাত্র ছেলে রাহুল দেববর্মন, যিনি আর ডি বর্মন নামে পরিচিত, পরের প্রজন্মের অন্যতম প্রভাবশালী চলচ্চিত্র সুরকার হন। ১৯৭৫ সালের ৩১ অক্টোবর মুম্বাইয়ে শচীন দেববর্মনের মৃত্যু হয়।
বিক্রমপুরসহ বাংলাদেশের শ্রোতাদের কাছে তাঁর জীবন মনে করিয়ে দেয়, দক্ষিণ এশিয়ার জনপ্রিয় সংগীতের কতটা অংশ পূর্ববঙ্গের নদীঘেরা গ্রাম ও শহর থেকে উঠে এসেছে। প্রতিবছর সীমান্তের দুই পারের সংগীতপ্রেমীরা তাঁর জন্মবার্ষিকী স্মরণ করেন।
সূত্র: en.wikipedia.org, britannica.com