মুন্সীগঞ্জে খুব কম জায়গাই আছে, যেখানে পদ্মার বিশালতা মাওয়ার মতো করে অনুভব করা যায়। এই ভিডিও ফিচারে আমরা নভেম্বরের শুরুর একটি দিনজুড়ে নদীকে অনুসরণ করেছি, যখন বর্ষার ভারী ঘোলা পানির জায়গা নিচ্ছে শান্ত, রুপালি ধূসর স্রোত, আর পানির ওপর নামছে শীতের প্রথম হালকা কুয়াশা।
ভিডিওর শুরু ভোরে, নরম কুয়াশা ভেদ করে ফুটে ওঠা পদ্মা সেতুর দীর্ঘ রেখা দিয়ে। প্রায় ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই দ্বিতল সড়ক ও রেলসেতু দিয়ে ২০২২ সালের জুনে যান চলাচল শুরুর পর থেকে প্রায় ২ কোটি ৬৯ লাখ যানবাহন পার হয়েছে। চলতি বছরের জুনের শেষে প্রকাশিত বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের হিসাবে তখন টোল আদায় ৩ হাজার ৪২৯ কোটি টাকা ছাড়িয়েছিল। নদীতীর থেকে দেখা যায়, ওপরে বাস ও ট্রাকের অবিরাম স্রোত আর নিচে পানির ধীর ছন্দের বৈপরীত্য।
আলো বাড়তে থাকলে ক্যামেরা ঘুরে যায় নদীর মানুষের দিকে। ছোট মাছ ধরার নৌকা পিলারের পাশ দিয়ে ভেসে যায়, তীরে জাল সেলাই চলে, কাঠের ট্রলার যাত্রী ও মালামাল নিয়ে চরের দিকে যায়। কয়েক মাস আগেও যে বালুচর পানির নিচে ছিল, সেখানে এখন ফ্যাকাশে জমির রেখা, যেখানে কৃষকেরা শিগগিরই শীতের ফসলের জন্য জমি তৈরি করবেন।
মাঝসকালে মাওয়ার নদীতীরে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। নদীর ধারের মাছের রেস্তোরাঁর জন্য এলাকাটি অনেক দিন ধরে পরিচিত, যেখানে অতিথিরা তাজা মাছ বেছে নিয়ে চোখের সামনে ভাজা হতে দেখেন। ছুটির দিনে ঢাকা থেকে অনেকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ধরে আসেন নদীর দৃশ্য দেখতে দেখতে খাওয়ার জন্য।
বিকেলের অংশে ধরা পড়েছে দিনের সেরা আলো। হেলে পড়া সূর্যে পানি সোনালি হয়ে ওঠে, অগভীর জলে বসে বকের দল, আর সেতুর অবয়ব ছড়িয়ে যায় দূরের তীর পর্যন্ত। ভিডিও শেষ হয় সন্ধ্যায়, যখন সেতুজুড়ে বাতি জ্বলে ওঠে আর শেষ নৌকাগুলো ঘরে ফেরে।
দেখার পরামর্শ: ছবি ও ভিডিওর জন্য ভোর ও বিকেলের আলো সবচেয়ে কোমল। দর্শনার্থীদের তীরের নিরাপদ ও নির্ধারিত জায়গায় থাকা, নদীতে না নামা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও নৌকাচালকদের নির্দেশনা মেনে চলা উচিত।
Photo: Azim Khan Ronnie, CC BY-SA 4.0, via Wikimedia Commons