মুন্সিগঞ্জ জেলায় এ মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন কৃষকদের মুখে ফিরিয়ে এনেছে স্বস্তি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্যানুযায়ী, এ বছর জেলায় ৩৪ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে — যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ৩৪ হাজার ৬৫৫ হেক্টরের চেয়ে সামান্য বেশি।

দেশের প্রধান আলু উৎপাদনকারী জেলাগুলোর মধ্যে মুন্সিগঞ্জ জাতীয়ভাবে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। উপজেলাভিত্তিক চাষাবাদের চিত্র দেখলে দেখা যায় — সদর উপজেলায় ৯,৫৮১ হেক্টর, টঙ্গীবাড়ীতে ৯,০৭০ হেক্টর, শ্রীনগরে ১,৯৪৪ হেক্টর, সিরাজদিখানে ৮,৯৫৮ হেক্টর, লৌহজংয়ে ৩,১০৯ হেক্টর এবং গজারিয়ায় ১,৯৯৮ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে।

প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ফলন

উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ১ কোটি ৪ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন। তবে কিছু এলাকায় হেক্টরপ্রতি ফলন ৪২ থেকে ৪৫ মেট্রিক টন পর্যন্ত পৌঁছানোয় মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৪ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূল থাকার পাশাপাশি পোকামাকড়ের আক্রমণ তুলনামূলক কম ছিল। সারের দাম প্রায় ১৫,৫০০ টাকায় স্থিতিশীল রাখা এবং খামারি অ্যাপের মাধ্যমে ২০৬টি ব্লকে সুষম সার ব্যবস্থাপনা চালু করার ফলে কৃষকরা উপকৃত হয়েছেন।

রপ্তানি ও প্রক্রিয়াজাতকরণের দিকে নজর

কর্তৃপক্ষ স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী কৌশল বাস্তবায়ন করছে যাতে আলু চাষ টেকসই ও লাভজনক হয়। ইতিমধ্যে ৬,৭৮৩ হেক্টর জমিতে রপ্তানি ও প্রক্রিয়াজাতকরণযোগ্য জাতের আলু চাষ সম্প্রসারিত হয়েছে। টঙ্গীবাড়ীতে আলু-ভিত্তিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের পাইলট প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তা অন্যান্য উপজেলায়ও ছড়িয়ে দেওয়া হবে।