মুন্সিগঞ্জের রামপাল ও বজ্রযোগিনী এলাকায় চলমান প্রত্নতাত্ত্বিক খননে উন্মোচিত হচ্ছে এক হাজার বছরের পুরনো বৌদ্ধ বিহার ও জনপদের চিহ্ন। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এটি পাল রাজবংশের আমলে (৭৫০–১১৭৪ খ্রিস্টাব্দ) প্রতিষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাকেন্দ্র — যেখানে বিশ্ববিখ্যাত বৌদ্ধ পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান (৯৮০–১০৫৪ খ্রিস্টাব্দ) তাঁর প্রাথমিক জীবন কাটিয়েছিলেন।

হারিয়ে যাওয়া এক সভ্যতার চিহ্ন

রঘুরামপুর গ্রামে এই বিহারের ৩.৫ মিটার x ৩.৫ মিটার আকারের পাঁচটি কক্ষ এবং একটি কেন্দ্রীয় দেয়াল উন্মোচিত হয়েছে। দেয়ালগুলোর পুরুত্ব কোথাও কোথাও তিন থেকে চার ফুট পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণাগারে ২৬টি প্রত্নবস্তুর কার্বন-১৪ পরীক্ষায় এই স্থানের বয়স এক হাজার বছরেরও বেশি বলে প্রমাণিত হয়েছে।

খননকাজে এ পর্যন্ত পাওয়া গেছে — পিরামিড আকারের স্তূপ, প্রশস্ত হাঁটাপথ, মণ্ডপ, ভিক্ষুদের বাসস্থান, পোড়ামাটির পাত্রের টুকরো, পোড়ামাটি ও পাথরের ভাস্কর্য, পোড়া ইট এবং প্রার্থনাকক্ষের ভিত্তি।

অতীশ দীপঙ্কর: হারানো ইতিহাসের পুনরাবিষ্কার

অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানকে এশিয়ার আলো বলা হয়। বজ্রযোগিনী গ্রামে জন্মগ্রহণকারী এই পণ্ডিত বিক্রমপুর মহাবিহারের অধ্যক্ষ ছিলেন। পরে তিব্বতের রাজা চাং চুপ-এর আমন্ত্রণে তিব্বতে গিয়ে তিনি বৌদ্ধ ধর্মের পুনর্জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিব্বতে ১৬ বছর অবস্থানকালে তিনি বৌদ্ধ ধর্মতত্ত্ব, চিকিৎসা ও প্রকৌশলবিদ্যা বিষয়ে ১৭৫টি গ্রন্থ রচনা করেন।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সঠিক সংরক্ষণ ও পরিকল্পিত প্রত্নতাত্ত্বিক পার্ক গড়ে তোলা গেলে এই স্থানটি বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় স্থান পেতে পারে। স্থানীয় ও বিদেশি গবেষক, পর্যটক ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য এটি দক্ষিণ এশিয়ার একটি বড় তীর্থস্থান হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।