মুন্সিগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ইদ্রাকপুর কেল্লা সপ্তদশ শতকের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুঘল স্থাপনা। ইছামতি নদীর তীরে নির্মিত এই দুর্গ এক সময় ঢাকার দিকে আসা নদীপথের জলদস্যু ও বিদেশি আক্রমণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

স্থাপত্যশৈলী

কেল্লাটি বৃত্তাকার পরিকল্পনায় নির্মিত এবং এর কেন্দ্রে রয়েছে একটি অষ্টভুজাকৃতির গোলাঘর। ইট নির্মিত প্রাচীরগুলো প্রায় ৯ ফুট উঁচু এবং কয়েক ফুট পুরু। প্রাচীরের ফাঁকে ফাঁকে রয়েছে গোলাবর্ষণের জন্য তৈরি বিশেষ ছিদ্র। এর গঠনশৈলী থেকে স্পষ্ট, এটি যুদ্ধকৌশলগত প্রয়োজনে নির্মিত।

ইতিহাসের সাক্ষী

সমকালীন নথি অনুযায়ী, মুঘল সুবাদার মীর জুমলার নির্দেশে ১৬৬০-এর দশকে এই দুর্গটি নির্মিত হয়। সে সময় বঙ্গদেশে আরাকানি ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের আক্রমণ ছিল নিয়মিত ঘটনা। ইদ্রাকপুর কেল্লা ও এর মতো অন্যান্য নদীতীরবর্তী দুর্গগুলো একসঙ্গে রাজধানীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গঠন করত।

পর্যটন সম্ভাবনা

বর্তমানে কেল্লাটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে আছে। তবে স্থানীয় গবেষক ও সংস্কৃতি কর্মীরা মনে করেন, সঠিক প্রচার, সাইনেজ ও দর্শনার্থী সুবিধা গড়ে তোলা গেলে এটি একটি প্রধান পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা থেকে দিনে দিনে যাওয়া-আসা সহজ হওয়ায়, ইদ্রাকপুর কেল্লা ও আশেপাশের ঐতিহাসিক স্থান যেমন রাজরাজেশ্বরী মন্দির, সোনারং জোড়া মন্দির — এসবকে একত্রিত করে একটি হেরিটেজ ট্রেইল গড়ে তোলা সম্ভব।