মুন্সীগঞ্জে ছুটির দিনের সেরা পরিকল্পনা অনেক সময় নদী নিজেই। শনিবার, ২৪ অক্টোবর সকাল ১১টায় জেলার সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সদস্যরা মহড়াকক্ষ ও অফিস ছেড়ে খোলা জলের টানে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাট থেকে দিনব্যাপী নৌভ্রমণে বের হন।

যাত্রাপথে ছিল গজারিয়ার শোলাআনি, চর কিশোরগঞ্জ ফেরিঘাট, মেঘনাঘাটসহ নদীর তীরের বিভিন্ন স্থান। নৌকায় জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা গান, আড্ডা আর একে অপরের সঙ্গ উপভোগ করে দিনটি কাটান। নিউজ৭১ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জোটের সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন সজল ও সাধারণ সম্পাদক শাহনাজ হীরা ভ্রমণের তত্ত্বাবধান করেন।

আয়োজকেরা জানান, সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ব জোরদার করা এবং ভবিষ্যতের যৌথ কর্মসূচিতে সমন্বয় বাড়ানোই ছিল এর উদ্দেশ্য। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, দৈনন্দিন কাজের বাইরে এই সময় তাঁদের নতুন উদ্দীপনা দিয়েছে, এবং তাঁরা আশা করেন এমন আয়োজন চলতে থাকবে।

ভাবনাটি সহজেই অনুসরণ করা যায়। শীতের কুয়াশা নামার আগে হেমন্তের শেষ ভাগ মুন্সীগঞ্জের নদীতে ঘোরার জন্য মনোরম সময় হতে পারে, সঙ্গে শীতল হাওয়া আর চরাঞ্চল ও নদীতীরের গ্রামের বিস্তৃত দৃশ্য। পরিবার, স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী কিংবা অফিসের সহকর্মীরা পরিচিত ঘাট থেকে ট্রলার বা ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভাড়া নিয়ে, ঘরে রান্না খাবার বা পিঠা সঙ্গে নিয়ে, অন্ধকার নামার অনেক আগেই ফিরে আসার মতো একটি পথ ঠিক করে নিতে পারেন।

কয়েকটি সহজ অভ্যাস নদীভ্রমণকে আরও নিরাপদ ও আনন্দময় করে। অভিজ্ঞ চালকসহ নিবন্ধিত নৌকা বেছে নিন, বিশেষ করে শিশুসহ সবার জন্য যথেষ্ট লাইফ জ্যাকেট নিশ্চিত করুন, রওনা দেওয়ার আগে আবহাওয়া দেখে নিন এবং কখনোই নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী তুলবেন না। খাবার পানি সঙ্গে রাখুন, ফোন পানিরোধী থলেতে রাখুন এবং সব আবর্জনা তীরে ফিরিয়ে আনুন, যাতে পরের দলের জন্যও নদী পরিষ্কার থাকে।

পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী ও ইছামতীর সঙ্গে যে জেলার পরিচয় জড়িয়ে আছে, সেখানে নদীতে ধীরে কাটানো একটি দিন মানে ঘরের সঙ্গে, আর এই জেলার সাংস্কৃতিক জীবনকে প্রাণবন্ত রাখা মানুষগুলোর সঙ্গে নতুন করে সংযোগ।

Photo: Alaminnayemhang, CC BY-SA 4.0, via Wikimedia Commons