মুন্সিগঞ্জের রামপাল উপজেলার নাটেশ্বর গ্রামে চলমান প্রত্নতাত্ত্বিক খননের ফলস্বরূপ এখানে গড়ে তোলা হচ্ছে দেশের প্রথম প্রত্নতাত্ত্বিক উদ্যান ও স্থানীয় জাদুঘর। ২০১০ সাল থেকে শুরু হওয়া এই খননে এ পর্যন্ত উন্মোচিত হয়েছে পিরামিড আকৃতির স্তূপ, প্রশস্ত হাঁটাপথ, মণ্ডপ এবং একটি বৌদ্ধ মহাবিহারের ভিত্তি।
স্থানীয় জাদুঘর
খননস্থলে গড়ে উঠছে একটি অনস্থল জাদুঘর — যেখানে প্রদর্শিত হবে এ স্থান থেকে উদ্ধার হওয়া পোড়ামাটি, পাথর ও ধাতব ভাস্কর্য, মৃৎপাত্রের টুকরো, ইট নির্মাণের নিদর্শন এবং প্রাণী ও উদ্ভিদের জৈবিক অবশেষ। দর্শনার্থীরা সরাসরি খনন স্থান পরিদর্শন করতে পারবেন এবং পাশাপাশি সংলগ্ন জাদুঘরে এসব নিদর্শন দেখার সুযোগ পাবেন।
বাংলাদেশ-চীন যৌথ গবেষণা
এই খননকাজ পরিচালনা করছে বাংলাদেশের অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং চীনের হুনান প্রদেশের ইনস্টিটিউট অব কালচারাল রিলিকস অ্যান্ড আর্কিওলজি — যৌথভাবে। চীন সরকার ইতিমধ্যে অতীশ দীপঙ্করের সম্মানে বজ্রযোগিনী গ্রামে একটি স্মৃতিসৌধও নির্মাণ করেছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গবেষকরা মনে করেন, পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে এই স্থানটি বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় স্থান পেতে পারে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী দেশের পর্যটক — বিশেষ করে চীন, তিব্বত, নেপাল, থাইল্যান্ড — থেকে আগমন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সঙ্গে যুক্ত হবে শিক্ষাগবেষণা, কর্মশালা এবং স্থানীয় কারুশিল্প প্রদর্শনের সুবিধা।