মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী উপজেলার সোনারং গ্রামে দাঁড়িয়ে আছে অষ্টাদশ শতকের দুটি বিখ্যাত মন্দির — যা স্থানীয়ভাবে সোনারং জোড়া মন্দির নামে পরিচিত। মন্দির দুটি প্রায় পাশাপাশি অবস্থিত এবং তাদের নির্মাণশৈলী, পোড়ামাটির অলংকরণ ও স্থাপত্যিক দিক থেকে বাংলার মন্দির স্থাপত্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
স্থাপত্যশৈলী
একটি মন্দির শিব মন্দির এবং অপরটি কালী মন্দির হিসেবে পরিচিত। উভয় মন্দিরের বহির্ভাগে পোড়ামাটির ফলকে খোদাই করা আছে রামায়ণ ও মহাভারতের বিভিন্ন দৃশ্য, পৌরাণিক চরিত্র, লতাপাতার নকশা এবং সমকালীন সমাজজীবনের চিত্র। উচ্চতায় প্রায় ১৮ মিটার এবং উভয় মন্দিরের শীর্ষে রয়েছে শঙ্কুকৃতি চূড়া।
নির্মাণকাল ও ইতিহাস
লিপি অনুযায়ী, ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে শ্রী রূপচন্দ্র নামে এক স্থানীয় ভূস্বামী এই মন্দির দুটি নির্মাণ করেন। তবে কিছু গবেষক মনে করেন, এর মূল কাঠামো আরও পুরনো এবং পরবর্তীতে সংস্কার ও সম্প্রসারণ হয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে এই মন্দিরগুলো স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে।
সংরক্ষণের চ্যালেঞ্জ
আবহাওয়াজনিত ক্ষয়, গাছপালার শিকড়ের চাপ এবং সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মন্দিরের অনেক পোড়ামাটির ফলক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কিছু সংরক্ষণমূলক কাজ করেছে, তবে স্থানীয় ঐতিহ্যপ্রেমীরা মনে করেন, ব্যাপকতর সংস্কার ও আন্তর্জাতিক মানের সংরক্ষণ পদ্ধতি প্রয়োগ ছাড়া এই অমূল্য স্থাপনাগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা কঠিন হবে।