২০২৬ সালের এইচএসসি ফলাফলে মুন্সীগঞ্জের দুটি প্রতিষ্ঠান বিশেষভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর জেলা প্রশাসক সৈয়দা নূরমহল আশরাফী লৌহজং উপজেলার ইউনুছ খান মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজকে জেলা প্রশাসনের ‘অ্যাওয়ার্ড অব এক্সিলেন্স ২০২৬’ প্রদান করেন। প্রতিষ্ঠানটি শতভাগ পাস করে পাসের হারে জেলায় প্রথম হয়েছে। অধ্যক্ষ তানজিমা সুলতানা পারভীন ক্রেস্ট গ্রহণ করেন। প্রতিষ্ঠানটি থেকে পরীক্ষা দেওয়া ৪১ জন শিক্ষার্থীর সবাই পাস করেছে, দুজন পেয়েছে জিপিএ-৫।
শিক্ষার মান, ফলাফল, শৃঙ্খলা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রম বিবেচনা করে জেলা প্রশাসন প্রতি মাসে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এই পুরস্কার দেয়। উদ্দেশ্য স্কুল ও কলেজগুলোর মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা উৎসাহিত করা।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক কলেজটির উদ্ভাবনী শিক্ষাদানের প্রশংসা করেন এবং অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও এ দৃষ্টান্ত অনুসরণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে বিজ্ঞান শিক্ষার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি প্রতিটি ক্লাসের আগে বিস্তারিত পাঠ পরিকল্পনা তৈরি এবং অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত কাউন্সেলিংয়ের আহ্বান জানান।
এদিকে মুন্সীগঞ্জ সদরের সরকারি হরগঙ্গা কলেজ থেকে এসেছে জেলার প্রায় অর্ধেক সেরা ফল। আমার বিক্রমপুরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জেলার মোট ৫৫ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্তের মধ্যে ২৬ জনই এই কলেজের। কলেজটির ১ হাজার ৮১৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১ হাজার ২৫৪ জন, পাসের হার ৭০.১৩ শতাংশ।
পুরো জেলায় ছয় উপজেলার ৩১টি প্রতিষ্ঠানের ৮ হাজার ৬১৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৪ হাজার ৩৬১ জন, পাসের হার ৫০.৬২ শতাংশ। উপজেলাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ পাসের হার লৌহজংয়ে, ৬৪.৯১ শতাংশ। মুন্সীগঞ্জ ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আওতাভুক্ত। ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর নয়টি সাধারণ বোর্ডের মধ্যে ৬১.৮০ শতাংশ পাসের হার নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বোর্ড।
ইউনুছ খান ও হরগঙ্গার এই সাফল্য বিক্রমপুরের অন্য স্কুল ও কলেজগুলোর জন্য শেখার মতো একটি দৃষ্টান্ত, বিশেষ করে যেসব উপজেলায় এ বছর পাসের হার কম ছিল।
Photo: Baizid Bhuiyan Juwel, CC BY-SA 3.0, via Wikimedia Commons