শিক্ষায় মুন্সীগঞ্জ ভালো করেছে। ২০২২ সালের জনশুমারিতে জেলার সাক্ষরতার হার ছিল ৭৭.৯ শতাংশ, যা জাতীয় গড়ের চেয়ে বেশি। বহু পরিবার সন্তানদের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাতে অনেক খরচ করেছে। কিন্তু এখন আর ডিগ্রি থাকলেই চাকরি নিশ্চিত নয়।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৩ অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী প্রায় ১৯ লাখ ৪০ হাজার তরুণ বেকার, যুব বেকারত্বের হার ৭.২ শতাংশ। এই বেকার তরুণদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ উচ্চশিক্ষা শেষ করেছেন। একই জরিপে দেখা গেছে, ১৮.৯ শতাংশ তরুণ শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণ কোনোটিতেই নেই, আর এই হার তরুণদের চেয়ে তরুণীদের মধ্যে বেশি।
এই পরিসংখ্যান দেখায়, তরুণেরা যা শিখছেন আর দেশে ও বিদেশে নিয়োগকর্তারা যে কাজের জন্য অর্থ দিতে রাজি, তার মধ্যে বড় ফাঁক রয়েছে। কাজে লাগার মতো ডিজিটাল দক্ষতা এই ফাঁক কমানোর সবচেয়ে স্পষ্ট উপায়গুলোর একটি।
সাধারণ কম্পিউটার ক্লাসের বাইরে
ডিজিটাল দক্ষতা বলতে আমরা শুধু টাইপিং বা অফিস সফটওয়্যারের ছোট কোর্স বোঝাচ্ছি না। আমরা বোঝাচ্ছি এমন দক্ষতা, যার জন্য মানুষ অর্থ দেয়: হিসাব সফটওয়্যারে বুককিপিং, ডেটা এন্ট্রি ও ডেটা পরিষ্কার করা, গ্রাফিক ডিজাইন, ভিডিও সম্পাদনা, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, স্থানীয় দোকানের অনলাইন বিপণন, গ্রাহক সেবা, সাইবার নিরাপত্তার মৌলিক জ্ঞান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার টুলের সতর্ক ব্যবহার। কয়েক মাসেই এগুলো শেখা যায়, শ্রীনগর বা সিরাজদিখানের বাড়িতে বসেই চর্চা করা যায়, আর ঢাকা কিংবা বিদেশের গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করা যায়।
অনেক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শেষ হয় একটি সনদ দিয়ে, চাকরি দিয়ে নয়। সাফল্য আর ব্যর্থতার পার্থক্য সাধারণত গড়ে দেয় বাস্তব প্রকল্পে চর্চা, প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মতো একজন পরামর্শদাতা এবং প্রথম পারিশ্রমিকের কাজ।
প্রবাসীদের ভূমিকা
বিক্রমপুরের একটি বিশেষ সুবিধা আছে। বিক্রমপুরের বহু মানুষ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ নানা দেশে প্রযুক্তি, অর্থ, স্বাস্থ্য ও প্রকৌশল খাতে কাজ করেন। মাসে মাত্র এক ঘণ্টার পরামর্শও মুন্সীগঞ্জের একজন তরুণের জীবনের পথ বদলে দিতে পারে। প্রবাসীদের পরিচালিত ব্যবসাগুলোও ন্যায্য পারিশ্রমিক ও স্পষ্ট মান বজায় রেখে দেশের প্রশিক্ষিত তরুণদের প্রথম কাজ দিতে পারে।
আমাদের পরামর্শ
- যা আছে তা কাজে লাগান। মুন্সীগঞ্জের বিদ্যালয়, কলেজ ও ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সংযোগ আছে। সন্ধ্যায় ও ছুটির দিনে তত্ত্বাবধানে চর্চার জন্য এগুলো খুলে দিতে খরচ সামান্য।
- বাস্তব চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দিন। স্থানীয় নিয়োগকর্তা, অনলাইন গ্রাহক ও প্রবাসী ব্যবসার সঙ্গে মিলে কোর্স তৈরি হোক, আর সাফল্য মাপা হোক ছয় মাসের মধ্যে কতজন আয় করছেন তা দিয়ে।
- তরুণীদের যুক্ত করুন। বাড়ির কাছে, নিরাপদ সময়ে এবং সম্ভব হলে নারী প্রশিক্ষকের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিলে জরিপে পাওয়া ব্যবধান কমবে।
- অনলাইন নিরাপত্তা শেখান। প্রতিটি কোর্সে প্রতারণা, অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত, কারণ তরুণ ফ্রিল্যান্সাররা প্রায়ই প্রতারকদের লক্ষ্য হন।
- পরামর্শদাতাদের নেটওয়ার্ক গড়ুন। প্রবাসী সংগঠনগুলো বিদেশের পেশাজীবীদের সঙ্গে দেশের ছোট ছোট শিক্ষার্থী দলকে নিয়মিত অনলাইন সেশনের জন্য যুক্ত করতে পারে।
একসময় বিক্রমপুরের বিহারে বাংলার বাইরের দূরদেশ থেকেও জ্ঞানপিপাসুরা আসতেন। আজকের তরুণদের শেখা ও আয়ের জন্য ঘর ছাড়তে হবে না। কাজে লাগার মতো দক্ষতা আর নিয়মিত পরামর্শ পেলে তাঁরা নিজের এলাকায় বসেই বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের কাজের জন্য প্রতিযোগিতা করতে পারবেন।
সূত্র: bbs.gov.bd, en.wikipedia.org